প্রতি দিন ২০০টি কল করা, ক্রেতাকে আমন্ত্রণ জানানো এবং আগ্রহী ক্রেতাকে নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তরুণীকে। কিন্তু, কাজ শেষ করতে না পারায় ২৮ জুলাই তাঁর ম্যানেজার ঝাং তাঁকে ২০০টি স্কোয়াট করতে বলেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় চরম শাস্তি পেতে হল তরুণীকে। ২০০ বার ওঠবস অথবা স্কোয়াট করতে বাধ্য করা হয় তাঁকে। শাস্তি শেষ হলে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছিলেন না তিনি। হাঁটতেও অসুবিধা হচ্ছিল। জানা যায়, পর পর ২০০টি স্কোয়াট করার ফলে তাঁর মাংসপেশির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনাটি পূর্ব চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের। সংবাদসংস্থা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, ঝেজিয়াঙের হাংঝৌতে জুন মাসে একটি ঋণ সহায়তা সংস্থায় আর্থিক পরামর্শদাতা হিসাবে টেলিসেল্‌স পদে প্রথম চাকরি শুরু করেছিলেন ২৯ বছরের ইয়াং। প্রতি দিন ২০০টি কল করা, ক্রেতাকে আমন্ত্রণ জানানো এবং আগ্রহী ক্রেতাকে নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তরুণীকে। কিন্তু, ২০০টি কলের সীমা শেষ করতে না পারায় ২৮ জুলাই তাঁর ম্যানেজার ঝাং তাঁকে ২০০টি স্কোয়াট করতে বলেন। অন্যথায় ৫০ ইউয়ান বা ৭ ডলার চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

খবর, তরুণী জানান তাঁর কাছে কোনও টাকা নেই। চাকরি বাঁচাতে তিনি ২০০টি স্কোয়াট করতে রাজি হন। ঝাংকে প্রমাণ দিতে অফিসের বিভিন্ন জায়গায় ওঠবস করে তা ফোনে রেকর্ডও করেন তিনি। তাঁর করা ভিডিয়োতেই দেখা যায়, স্কোয়াট শেষে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছিলেন না তিনি। পা টলছিল তাঁর। পায়ে তীব্র ব্যথার কথাও জানান ওই তরুণী।

কিন্তু, টাকার অভাবে চিকিৎসকের কাছেও যেতে পারছিলেন না। পাঁচ দিন পর যখন চিকিৎসকের কাছে যান তখন তাঁর প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে গিয়েছে। তিনি র‍্যাবডোমায়োলাইসিসে আক্রান্ত বলে জানায় হাসপাতাল। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পেশি দ্রুত ভেঙে যায় এবং এর উপাদানগুলি রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত সংক্রমণ হলে, ওই উপাদানগুলি কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এমনকি কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, ইয়াঙের ক্রিয়েটিন কাইনেজের মাত্রা ১৬,০০০ ইউ/এল ছাড়িয়ে গিয়েছে। যেখানে ওই রোগ নির্ণয়ের মাত্রাই হল ১,০০০ ইউ/এল। তবে সৌভাগ্য এই যে, ইয়াঙের কিডনি বিকল হয়নি। চিকিৎসক তাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার এবং কঠোর ব্যায়াম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। পরবর্তী কালে ওই সংস্থা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি সংস্থা থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তরুণীর অভিযোগ, তিনি বুঝতে পারছিলেন অতিরিক্ত লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু, অভিযোগ অস্বীকার করেন তাঁর ম্যানেজার ঝাং। তিনি ওই তরুণীকে আইনি পরামর্শ নেওয়ার উপদেশ দেন। সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তীব্র সমালোচনা করেছেন ওই ঘটনার। তাঁরা অভিযুক্তের গ্রেফতারিও দাবি করেছেন। অনেকে আবার ইয়াংকে বলেছেন, “স্বাস্থ্যের চেয়ে কোনও কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।”

আনন্দবাজার ডট কম