আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জর্ডানের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুই দলের একাদশে পরিবর্তনের পথে। তবে কারণ এক নয়। গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করায় লিওনেল স্কালোনি বিশ্রাম দিচ্ছেন লিওনেল মেসিসহ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে। অন্যদিকে আগেই বিদায় নেওয়া জর্ডান এই ম্যাচকে দেখছে ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির বড় সুযোগ হিসেবে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ সময় রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও জর্ডান। পয়েন্ট টেবিলের হিসেবে ম্যাচটির গুরুত্ব কম হলেও দুই দলের জন্যই এটি ভিন্ন অর্থ বহন করছে।

আর্জেন্টিনা দুই ম্যাচে দুই জয়ে গ্রুপসেরা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার কাছে হেরে জর্ডানের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। তবে শেষ ম্যাচকে শুধুই আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছে না জর্ডান। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নেমে ভবিষ্যতের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এই পরিস্থিতিতে জর্ডানের কোচ জামাল সেল্লামি কয়েকজন নতুন ও কম খেলা খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তরুণদের অভিজ্ঞতা দেওয়াই তার প্রধান উদ্দেশ্য।

জর্ডান এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ফলাফল প্রত্যাশামতো না হলেও দেশটির ফুটবলের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিজেদের নতুন খেলোয়াড়দের সামর্থ্য যাচাই করতে চায় দলটি।

সেল্লামি ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন। এশিয়ার ফুটবলে আরও শক্তিশালী ও গভীর দল গড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বিশ্বকাপের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান তিনি।

আর্জেন্টিনাকে নিয়ে জর্ডান কোচের শ্রদ্ধাও স্পষ্ট। তিনি বলেন, মেসি খেলুন বা না খেলুন, আর্জেন্টিনা সবসময়ই একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত দল। তার ভাষায়, “মেসি খেললে তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। তবে তিনি না খেললেও আমরা একটি অসাধারণ দলের বিপক্ষেই মাঠে নামব।”

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পরিবর্তিত একাদশ নিয়েও সতর্ক জর্ডান। সেল্লামি বলেন, “আর্জেন্টিনা কোচ শুরুর একাদশে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা আমরা জানি না। তবে যে খেলোয়াড়ই মাঠে নামুক, তারা সবাই নিজেদের জায়গায় যোগ্য।”

এই ম্যাচ তাই জর্ডানের জন্য আত্মসমর্পণের নয়, বরং শেখার সুযোগ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় নতুন খেলোয়াড়রা চাপ সামলে কেমন পারফর্ম করে, সেটিই দেখতে চায় দলটি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও বিশ্রাম ও স্কোয়াডের ভারসাম্য ধরে রাখতে পরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারে। কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসি শুরুতে বেঞ্চে থাকবেন এবং প্রয়োজন হলে পরে মাঠে নামতে পারেন।

স্কালোনির লক্ষ্য, নিয়মিত একাদশের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া এবং দলের খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তিনি বলেন, “যারা খেলবে, তারা খেলার যোগ্য। তারা দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনুশীলনে তারা দলের সাফল্যের জন্য অনেক অবদান রেখেছে।”

আর্জেন্টিনার একাদশে মেসির জায়গায় শুরুতে নিকো পাজকে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি জুলিয়ান আলভারেস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসদেরও বেশি সময় মাঠে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর পরিবর্তে নিকোলাস ওতামেন্দির ফেরার সুযোগ রয়েছে।

তবে আর্জেন্টিনার জন্য এটি গ্রুপ পর্বের আরেকটি ম্যাচ হলেও জর্ডানের কাছে এর আবেগ অনেক বেশি। রাজধানী আম্মানে ম্যাচটি ঘিরে রয়েছে বিশেষ উত্তেজনা। স্থানীয় সময় ভোরে ম্যাচ শুরু হলেও রোমান থিয়েটার, হাশেমাইট প্লাজা ও ওডিয়ন থিয়েটারে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর আয়োজন করা হয়েছে।

মেসি ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলাকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছে জর্ডান। অধিনায়ক নূর আল-রাওয়াবদেহ বলেন, “আমরা বিশ্বকে দেখাতে চাই আমরা কারা। জর্ডানের মানুষ স্বপ্ন দেখে, চেষ্টা করে এবং আমরা গর্বিত যে এই মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরতে পেরেছি।”

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হলেও জর্ডানের প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ কমেনি। প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই দেশটির ফুটবলে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।

আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি শেষ ৩২-এর আগে ছন্দ ধরে রাখার সুযোগ, আর জর্ডানের জন্য এটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাছ থেকে শেখার শেষ পাঠ। ফলাফল যাই হোক, ভবিষ্যতের দল গড়ার পথে এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।