Wednesday, June 03, 2026
Singapore 29°CTokyo 21°CHong Kong 24°C
Santhia

ঝড়ে উড়ল শত শত ঘরের চালা, ৫ ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে টানা দুই দফা কালবৈশাখীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে চার শতাধিক ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে।

পাবনা প্রতিনিধি
Published: 25 May 2026, 5:28 AM | Updated: 2 June 2026, 6:48 PM
1 min read
Share:
ঝড়ে উড়ল শত শত ঘরের চালা, ৫ ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে টানা দুই দফা কালবৈশাখীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার ভোরে বয়ে যাওয়া ঝড়ে চার শতাধিক ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার। এতে পাঁচটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোরেও একই ধরনের ঝড়ে উপজেলার চার শতাধিক ঘরবাড়ি ও ৩৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই দফা ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আট শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

Loading advertisement...

 

টানা দুই দফা কালবৈশাখীতে বদরগঞ্জের অনেক পরিবার এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ঈদের আগে এমন দুর্যোগে বহু নিম্ন আয়ের পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অনেকেই উন্মুক্তভাবে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ঈদের আগে ঘর মেরামত, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

এলাকাবাসী, উপজেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোর ৪টার দিকে হঠাৎ প্রবল বেগে ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘুমন্ত মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই অনেক ঘরের চালা উড়ে যায় এবং গাছপালা ভেঙে পড়ে।

 

দামোদরপুর ইউনিয়নের চম্পাতলী গ্রামের খগেন্দ্র চন্দ্র বলেন, ‘হঠাৎ ঝড়ে আমার ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। গাছপালা ভেঙে পড়েছে।’ একই ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের রাশেদা বেগম (৬০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা, মুই গরিব মানুষ। কষ্ট করি সংসার চলাও। ঝড়োত মোর ঘরের টিন উড়ি গেইছে। এই টিন আর ঘরোত নাগা যাবার নেয়। টাকা-পাইশা নাই, সামনে ঈদ—কী করিম বুঝবার পাওচো না।’

 

ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দামোদরপুর ও মধুপুরে। দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুবক্কর সিদ্দিক জানান, কালাপানি, ইন্দিরাপাড়া, আমরুলবাড়ি, সিংহিমারীসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পেয়েছেন। তিন শতাধিক ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।’ মধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলম ভুট্টু বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ও রোববারের ঝড়ে আমার ইউনিয়নের চার শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

 

দামোদরপুর ও মধুপুর ইউনিয়ন ছাড়াও বদরগঞ্জ পৌরসভা, গোপালপুর ও গোপীনাথপুর ইউনিয়নেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক স্থানে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফলের গাছ ভেঙে গেছে এবং ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়েছে।

 

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বদরগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার পাল জানান, দুই দফা ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।’

 

ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করছে প্রশাসন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য আমরা পেয়েছি। সব ইউনিয়নের তথ্য হাতে পেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।’

Alauddin Aladin
Writer ProfileAlauddin Aladin

Discussion (0)

No comments posted yet. Be the first to start the discussion!

Leave a Comment

Loading advertisement...

Sections

© 2026 Priyocampus News